চুল পড়ার মূল কারণ: কোন ভিটামিনের অভাবে এমনটা হয়?

চুল পড়ার মূল কারণ: কোন ভিটামিনের অভাবে এমনটা হয়?

হঠাৎ চুল বেশি ঝরছে? কোন ভিটামিনের ঘাটতিতে চুল পড়ে—জানুন বিস্তারিত বিশ্লেষণ

প্রতিদিন গড়ে ৫০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। কিন্তু যখন হঠাৎই চুল পড়ার হার কয়েকগুণ বেড়ে যায়, তখন সেটা শরীরের অভ্যন্তরীণ কোনো ঘাটতি, স্ট্রেস বা হরমোনগত পরিবর্তনের সংকেত দেয়। এর মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ও উপেক্ষিত কারণ হলো—ভিটামিন ও পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি।

চুল ঠিকমতো বাড়তে হলে শরীরকে ভেতর থেকে সঠিক পুষ্টি দিতে হয়। ভিটামিন কমে গেলে চুলের ফলিকল দুর্বল হয়ে যায়, চুল পাতলা হয়ে যায়, ভঙ্গুর হয় এবং চুল ওঠাও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

নিচে চুল পড়ার সঙ্গে যুক্ত প্রতিটি জরুরি ভিটামিনের ভূমিকা, ঘাটতির লক্ষণ, খাবারের উৎস—সব কিছু বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

কোন ভিটামিনের অভাবে বেশি চুল পড়ে?—বিস্তারিত কারণ
ভিটামিন ডি: চুলের নতুন ফলিকল তৈরির মূল উপাদান

ভিটামিন ডি শুধু হাড়ের জন্য নয়, নতুন চুল গজানোর জন্যও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এর ঘাটতি হলে চুলের ফলিকল নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, ফলে নতুন চুল গজাতে দেরি হয় বা বন্ধ হয়ে যায়।

ভিটামিন ডি কমে গেলে যে লক্ষণ দেখা দেয়:

চুল পাতলা হয়ে যাওয়া

নতুন চুল না ওঠা

মাথার মাঝ বরাবর খালি জায়গা তৈরি

চুল শুকনো হওয়া

যে খাবারে পাওয়া যায়:

ডিম

মাছ (সামন, সার্ডিন)

দুধ, দই

মাশরুম

নিয়মিত কিছুক্ষণ রোদে থাকা (সবচেয়ে ভালো উৎস)

বায়োটিন (ভিটামিন বি৭): চুলের কেরাটিন তৈরির ভিটামিন

বায়োটিনকে বলা হয় “হেয়ার গ্রোথ ভিটামিন”। কারণ এটি কেরাটিন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা চুল, নখ ও ত্বকের মূল উপাদান।

বায়োটিন কমে গেলে:

চুল ভঙ্গুর হয়ে যায়

চুল পাতলা হয়ে মাথার ত্বক দেখা যায়

সহজে চুল ঝরে যায়

নখ ভেঙে যায়

উৎস:

ডিম

দুধ, দই

গাজর

বাদাম

কলিজা

কলা

কোন ভিটামিনের অভাবে বেশি চুল পড়ে?—বিস্তারিত কারণ
ভিটামিন ডি: চুলের নতুন ফলিকল তৈরির মূল উপাদান

ভিটামিন ডি শুধু হাড়ের জন্য নয়, নতুন চুল গজানোর জন্যও অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এর ঘাটতি হলে চুলের ফলিকল নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে, ফলে নতুন চুল গজাতে দেরি হয় বা বন্ধ হয়ে যায়।

ভিটামিন ডি কমে গেলে যে লক্ষণ দেখা দেয়:

চুল পাতলা হয়ে যাওয়া

নতুন চুল না ওঠা

মাথার মাঝ বরাবর খালি জায়গা তৈরি

চুল শুকনো হওয়া

যে খাবারে পাওয়া যায়:

ডিম

মাছ (সামন, সার্ডিন)

দুধ, দই

মাশরুম

নিয়মিত কিছুক্ষণ রোদে থাকা (সবচেয়ে ভালো উৎস)

বায়োটিন (ভিটামিন বি৭): চুলের কেরাটিন তৈরির ভিটামিন

বায়োটিনকে বলা হয় “হেয়ার গ্রোথ ভিটামিন”। কারণ এটি কেরাটিন উৎপাদনে সাহায্য করে, যা চুল, নখ ও ত্বকের মূল উপাদান।

বায়োটিন কমে গেলে:

চুল ভঙ্গুর হয়ে যায়

চুল পাতলা হয়ে মাথার ত্বক দেখা যায়

সহজে চুল ঝরে যায়

নখ ভেঙে যায়

উৎস:

ডিম

দুধ, দই

গাজর

বাদাম

কলিজা

কলা

আয়রন: চুলের গোড়ায় অক্সিজেন পৌঁছানোর দায়িত্বে

বিশেষ করে মেয়েদের মধ্যে আয়রনের ঘাটতি বেশি দেখা যায়, যার সরাসরি প্রভাব পড়ে চুলে। আয়রন কমে গেলে রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যায়, ফলে চুলের গোড়ায় পর্যাপ্ত অক্সিজেন পৌঁছায় না।

আয়রন কমে গেলে:

প্রচুর চুল পড়া

মাথা ঘোরা

দুর্বলতা

নখ পাতলা হয়ে যাওয়া

উৎস:

পালংশাক

কচুশাক

ডাল

ডিম

কলিজা

খেজুর

ডুমুর

 ভিটামিন বি১২: রক্ত তৈরিতে সহায়ক

ভিটামিন বি১২ শরীরে রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে এবং চুলের ফলিকলে রক্তসঞ্চালন বাড়ায়। এর ঘাটতি হলে চুলের রুট দুর্বল হয়ে যায়।

উৎস:

দুধ

দই

মাছ

ডিম

মাংস

 ভিটামিন সি: চুলের জন্য প্রয়োজনীয় কোলাজেন তৈরির উপাদান

ভিটামিন সি কোলাজেন প্রোটিন তৈরি করে, যা চুলকে মজবুত করে এবং চুল ভাঙা কমায়। পাশাপাশি ভিটামিন সি আয়রন শোষণেও সাহায্য করে।

ভিটামিন সি কমে গেলে:

চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া

চুল ভেঙে যাওয়া

চুলের ডগা ফেটে যাওয়া

উৎস:

লেবু

মালটা

আমলকি

পেয়ারা

টমেটো

কমলা

ভিটামিন ই: চুলের রুটে রক্তসঞ্চালন বাড়ায়

ভিটামিন ই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। এটি মাথার ত্বককে সুস্থ রাখে ও স্ট্রেস কমিয়ে চুল পড়া কমিয়ে দেয়।

উৎস:

বাদাম

অলিভ অয়েল

সূর্যমুখীর তেল

বীজজাতীয় খাবার

 জিংক: চুল ভেঙে যাওয়া প্রতিরোধ করে

জিংক চুলের কেরাটিন সুরক্ষা করে। এর ঘাটতি হলে চুল দুর্বল হয়ে খুব সহজে ভেঙে যায়।

উৎস:

কাজুবাদাম

ডিম

দই

মুরগির মাংস

বিনস

 প্রোটিন: চুলের প্রধান গঠন উপাদান

চুলের ৯০%–ই প্রোটিন দিয়ে তৈরি। তাই প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন কম থাকলে চুল স্বাভাবিকভাবেই ঝরে যেতে পারে।

উৎস:

ডিম

মাছ

মুরগি

ডাল

ছোলা

সোয়াবিন

চুল পড়া কমাতে দৈনন্দিন যে অভ্যাসগুলো জরুরি

সুষম খাবার খাওয়া
পর্যাপ্ত পানি পান
ঘুম সঠিক রাখা
মানসিক চাপ কমানো
নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখা
অতিরিক্ত স্ট্রেইটনার/রাসায়নিক ব্যবহার কমানো
তেল দিয়ে হালকা মালিশ করা

কখন চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে?

চুল পড়া হঠাৎ ২–৩ গুণ বেড়ে গেলে

মাথার কোনো অংশ খালি হয়ে গেলে

নতুন চুল না উঠলে

খুশকি/স্কিন প্রবলেম থাকলে

তখন একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *